গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর ঘটনাকে উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক পুলিশ নির্যাতনে মৃত্যু দাবি করে মবসৃষ্টি।
প্রকাশের সময়: 25 Jan, 2026

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর ঘটনাকে উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক পুলিশ নির্যাতনে মৃত্যু দাবি করে মবসৃষ্টি।

 ======================

*প্রেস রিলিজ*

*রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)*

*তারিখ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ*


গত ২২/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জিআর-৩৭/২৫ (পরশুরাম), প্রসেস-৩০২৩/২৫ সংক্রান্তে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মুকুল মিয়া (৪৪), পিতা- মৃত আকবর হোসেন, স্থায়ী সাং- রাধাবল্লভ (আংশিক), বর্তমান সাং- ধাপ চিকলীভাটা, ওয়ার্ড নং-১৯, থানা-কোতোয়ালী, রংপুর মহানগরকে রাত আনুমানিক ২৩.৩০ ঘটিকায় কোতোয়ালী থানা, আরপিএমপি, রংপুরের রাত্রীকালীন মোবাইল-২ (নাইট) পার্টির সদস্যগণ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে তার নিজ বসতবাড়ি হতে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারের পর আসামিকে থানায় নিয়ে আসার পথে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল পূর্বগেট এলাকায় সে বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থবোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২৩/০১/২০২৬ খ্রিঃ রাত ০০.০৬ ঘটিকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


পরবর্তীতে উক্ত ঘটনার সংবাদ পেয়ে মৃতের স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে উপস্থিত হন। একই তারিখ রাত আনুমানিক ০২.১৫ ঘটিকায় প্রায় ৭০/৮০ জন অজ্ঞাতনামা উত্তেজিত ব্যক্তি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ হতে মৃতের লাশ জোরপূর্বক বের করে নিয়ে বেআইনিভাবে ধাপ মেডিকেল মোড় গোলচত্ত্বর সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে যানবাহন ও সাধারণ জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।


অফিসার ইনচার্জ, কোতোয়ালী থানা সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে অফিসার ইনচার্জকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার মাথা ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। উপস্থিত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কিছু সাংবাদিকের সহায়তায় অফিসার ইনচার্জকে উত্তেজিত জনতার কবল থেকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে মৃত মুকুল মিয়ার লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয় এবং আহত অফিসার ইনচার্জকে তাৎক্ষণিকভাবে মাউন্ট প্যাসিফিক হাসপাতাল, ধাপ, রংপুরে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।


পরদিন ২৩/০১/২০২৬ খ্রিঃ বেলা ১৪.১০ ঘটিকায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মৃত মুকুল মিয়ার লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। সুরতহাল রিপোর্টে মৃতের শরীরে বাহ্যিকভাবে/দৃশ্যমান কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নাই মর্মে উল্লেখ করা হয়।পরবর্তীতে মৃতের স্ত্রী কর্তৃক বিনা ময়নাতদন্তে লাশ গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন দাখিলের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতের লাশ তার নিকট হস্তান্তর করা হয়।


উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনায় মৃত মুকুল মিয়া পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং পুলিশ লাশ ফেলে সটকে পড়েন মর্মে একটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হয়। তবে ঘটনাস্থলের বাস্তবতা, চিকিৎসকের ঘোষণা, সুরতহাল রিপোর্ট এবং সম্পন্ন আইনগত প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় উক্ত দাবির কোন সত্যতা পাওয়া যায় নাই। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

______________

*মিডিয়া সেল, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ*