ইন্সপেক্টর জেনারেলে মহোদয়

igp_message ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) ১৫ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ সালে সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্ত্বীর্ন হয়ে সারসরি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদান করেন।

একজন দক্ষ,পেশাদার , আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক পুলিশ অফিসার জনাব বেনজীর তার বর্ণাঢ্য চাকুরী জীবনে র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার, পুলিশ হেডকোর্য়াটার্সের ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশনস্) ও ডিআইজি ( ফিন্যান্স এন্ড বাজেট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি পুলিশ সুপার হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পালন করেছেন।

পুলিশ হেডকোর্য়াটার্সের ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশনস্) হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালিন তার হাত ধরেই "Police Internal Oversight (PIO)" যাত্রা শুরু করে। ড. আহমেদ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে  ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে ডিএমপিতে ব্যাপক Structural Reform করেন। ডিএমপির সকল ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া চালু করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিট পুলিশিং কার্যক্র চালু, মিডিয়া সেন্টার স্থাপনসহ জনবল বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তিনি ২০১৩ সালে হেফাজতের তান্ডব,২০১৩-২০১৫ সালের রাজনৈতিক অগ্নি সন্ত্রাস অসীম সাহসিকতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে দমন করেন। ২০১৫-২০২০ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করাসহ হলি আর্টিসান বেকারীতে জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় সাহসি ও কৌশলী ভূমিকা পালন করেন।

২০২০ সালে মুজিববর্ষে আইজিপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই তিনি জাতির পিতার প্রত্যাশিত “জনতার পুলিশ” হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশকে গড়ে তুলতে “পুলিশকে জনতার প্রথম ভরসাস্থল” ঘোষণা দেন। তিনি পুলিশকে আরো দক্ষ ও যুগোপযোগী করতে দূর্নীতিমুক্ত, মানবিক, মাদকের বিষয়ে আপোষহীন হওয়ার পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রম ও পুলিশের কল্যাণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। ইতোমধ্যে বিট পুলিশিং কার্যক্রম, নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস চালু এবং সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার প্রবর্তনের উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করেছেন। তিনিই উপমহাদেশের মধ্যে প্রথম যিনি নিউইর্য়কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ডিপার্টমেন্ট অব পিস কিপিং অপারেশনস্ এর অধীনে মিশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট সেকশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি কসোভো মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্ট কমান্ডারের দায়িত্বপালন করেন।

জ্ঞান পিপাসু ড. বেনজীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি এলএলবি ও এমবিএ ডিগ্রীও অর্জন করেন। লেখাপড়ার প্রতি তাঁর ঐাকন্তিক আকর্ষেণের কারনেই তিনি সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টি থেকে ডক্টর অ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ একাডেমিতে পেশাগত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে তিনি রেক্টর’স মেডেল প্রাপ্তির কৃতিত্ব অর্জন করেন। এছাড়াও চাকুরী জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রেকর্ড সংখ্যক সর্বোচ্চ ছয়বার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এ ভূষিত হয়েছেন। এই দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান কর্মকর্তা বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন এর তিনবার সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন।

তিনি ১৯৬৩ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বিবহিত এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক।