35 দিন
17 ঘন্টা
50 মিনিট
39 সেকেন্ড

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানা কর্তৃক প্রায় ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের জাল ব্যান্ডরোলসহ ০৪ জন গ্রেফতার.......

বিষয়বস্তু: আরপিএমপি সংবাদ | প্রকাশের সময় : 2019-12-04 02:43:29


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানা কর্তৃক  প্রায় ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের জাল ব্যান্ডরোলসহ ০৪ জন গ্রেফতার.......


রংপুরের হারাগাছে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা মুল্যের জাল ব্যান্ডরোলসহ সরবরাহকারীর লিডারসহ চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে আরপিএমপি হারাগাছ থানার পশ্চিত পোদ্দারপাড়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জাল ব্যান্ডরোল ছাপানো ও সরবরাহ চক্রের লিডার সামা (৫০), আব্দুল জলিল (৫৫), গোলাপি বেগম (৪৫) ও সুলতানা বেগম (৩০)।
গ্রেফতারকৃত লিডারসহ চক্রের একাধিক সদস্যরা জাল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে দীর্ঘদিন ধরে হারাগাছ পৌর এলাকা, ভিতরকুঠি, গংগাচড়া, মর্নেয়া, দর্জিপাড়া, ডেলকোটারী, মিয়াপাড়া, ঠাকুরদাশ, বানুপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন ছোট বিড়ি কারখানায় মালিকদের কাছে সরবরাহের করার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় হারাগাছ থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ)জনাব কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, হারাগাছ থানার পশ্চিম পোদ্দারপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমান জাল ব্যান্ডরোল সরবরাহের জন্য মজুদ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে এসি (মাহিগঞ্জ জোন)জনাব মোঃ ফারুক আহমেদের নির্দেশনায় হারাগাছ থানার ওসি এ.কে.এম নাজমুল কাদেরের নেতৃত্বে এসআই মমিনুল ইসলামসহ একদল পুলিশ ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে জাল ব্যান্ডরোল ছাপানো ও সরবরাহচক্রের মুল লিডার সামা (৫০) ও তার বড় ভাই সাবেক কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম (৫৫), আক্তার ও গাল পোড়া আক্তার (৩৭), আব্দুল জলিল (৫৫), গোলাপি বেগম (৪৫) ও সুলতানা বেগমের (৩০) বসতঘর থেকে ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মূল্যের৭ লাখ ৭০ হাজার পিচ জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় জালব্যান্ডরোলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

পরে আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জাল ব্যান্ডরোল ছাপানো ও সরবরাহ চক্রের মুল লিডার আজিত বিড়ির মালিক সামাকে এসি (মাহিগঞ্জ জোন) মোঃ ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে হারাগাছ থানা পুলিশ ভোর রাতে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রের সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত আছে তার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এখন বলা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (ক)(খ) ধারায় মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান আরো জানান, গ্রেফতারকৃত লিডার সামাসহ চক্রের একাধিক সদস্যরা জেলার বাহিরে জাল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন ছোট বিড়ি কারখানায় মালিকদের কাছে সরবরাহের করতো। এতে করে চক্রটি মোটা অংকের টাকা আয় করতো। অন্যদিকে নুতন বিড়ি কারখানার মালিকরা জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে তারা প্রতি বছর প্রায় কয়েক শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিতো। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে খুব শ্রীঘ্রই তাদের কেও আইনের আওতায় আনা হবে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আরোও বলেন, জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার রোধে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে রয়েছে। হারাগাছসহ জেলার যে কোনো এলাকায় জাল ব্যান্ডরোল সরবরাহকারী ও ব্যবহারকারী কেউ ছাড় পাবে না। বর্তমানে গ্রেফতাররা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
ব্রিফিং কালে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন)মোঃ ফারুক আহমেদ, হারাগাছ থানার ওসি একেএম নাজমুল কাদের, মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মমিনুল ইসলাম প্রমুখ। এদিকে জাল ব্যান্ডরোল ছাপানো ও সরবরাহকারী চক্রের লিডার পুলিমের কাছে ধরা পড়ার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


আরও সংবাদ