রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচন: ২ আসামী গ্রেফতার

বিষয়বস্তু: আরপিএমপি সংবাদ | প্রকাশের সময় : 2019-09-26 03:46:44


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচন: ২ আসামী গ্রেফতার


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর তাজহাট থানার আক্কেলপুর গ্রামের জনৈক মতি মিয়া (৬০) পেশায় একজন কবিরাজ গত ১৫/০৯/১৯ খ্রিঃ তারিখ সময় অনুমান সন্ধ্যা ০৭.৩০ টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজ মতি মিয়ার আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন স্থানে তার অনুসন্ধান করেন। কিন্তু অনুসন্ধান করে তাকে পাওয়া না গেলে তার একমাত্র ছেলে মোঃ আরিফ মিয়া গত ১৯/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে তাজহাট থানা, আরপিএমপি, রংপুরে উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ সংক্রান্তে একটি জিডি করেন।
.
নিখোঁজ সংবাদ প্রাপ্তির পর এই বিষয়ে তাজহাট থানার পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তাজহাট থানা পুলিশ গত ২২/০৯/১৯খ্রিঃ তারিখে তাজহাট থানার পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর থানার দমদমা ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে ঘাঘট নদীতে ০১টি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশের সংবাদ পায়।

উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির ছেলে মোঃ আরিফ মিয়ার সহায়তায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ তার পিতার লাশ বলে সনাক্ত করেন। নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ মিঠাপুকুর থানা এলাকায় পাওয়ার কারনে গত ২২/০৯/১৯খ্রিঃ তারিখে মিঠাপুকুর থানা, রংপুর জেলা জিডি মূলে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মৃত্যুর প্রকৃত কারন নির্ণয়ের জন্য মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনা মৃত মতি মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া গত ২৪/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে তাজহাট থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে এজাহার দায়ের করেন।

তাজহাট থানার আক্কেলপুর গ্রামের মতি মিয়ার নিখোঁজের বিষয় ও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারন তদন্তের জন্য জনাব মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম, পুলিশ কমিশনার আরপিএমপি, রংপুর মহোদয়ের নির্দেশে জনাব কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার পিপিএম, অতিরিক্ত- উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), জনাব মোঃ জমির উদ্দিন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী জোন), তাজহাট থানার জনাব মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত), তদন্তকারী অফিসার জনাব মোঃ মামুনুর রশীদ, এসআই(নিঃ) সহ সংগীয় অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ টিম ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন এবং তথ্য প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জড়িত আসামীদের সনাক্ত করেন।
.
তদন্তকালে রংপুর মেট্রোপলিটন ও রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে গত ২৪/০৯/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে হত্যার সাথে জড়িত আসামী মোঃ রেজাউল ইসলাম@রেজা(৪০) গ্রেফতার করেন।
.
তার দেওয়া তথ্য মতে ঘটনার সহিত জড়িত অপর আসামী মোঃ আফতাব উদ্দিন(৫৫)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
.
জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো জানায় যে, মৃত মতি মিয়া একজন কবিরাজ ও তুলা রাশি জাতক ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় ও অপর পলাতক আসামী তার কাছে অনেক বছর থেকে কবিরাজী পেশা ও তুলা রাশির বিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে কবিরাজী পেশা ও নিজেদের মতাদর্শিক কারনে মৃত মতি মিয়ার সাথে তাদের মতবিরোধ দেখা দেয়।

উক্ত বিরোধের কারনে গত ১৫/০৯/১৯ খ্রিঃ তারিখে রাত অনুমান ০৭:৩০ টার সময় ০৩ জন আসামী মতি মিয়াকে সুকৌশলে অটোগাড়ী যোগে দর্শনা মোড় হতে তাজহাট থানার পানবাড়ি এলাকার ঘাঘট নদীর কাছে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব শক্রতার জের ধরে প্রথমে লোহার রড দিয়ে মাথায় ও পরর্তীতে শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে সকলে মিলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর জড়িত আসামীগন হত্যার বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও লাশ গোপন করার উদেশ্যে মৃতদেহ ঘাঘট নদীতে ফেলে দেয়।
.

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগ অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর অপহরনপূর্বক হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে এবং হত্যার সাথে জড়িত অপর পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ সংক্রান্তে তাজহাট থানার থানার জিডি নং-৯৫৭, তাং-১৯/০৯/২০১৯ খ্রিঃ এবং তাজহাট থানার মামলা নং-২০, তাং-২৪/০৯/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা-৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।

আরও সংবাদ